গত কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পরই আঁচ করা গিয়েছিল। যদিও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ট্রেবল জিতে, গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে দাবিদার হয়েছিলেন আর্লিং হলান্ডও। কিন্তু শেষমেশ ফ্রান্স ফুটবলের জুরি বোর্ডের ভোটের রায়টা পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিই।
আরও একবার নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে রেকর্ড অষ্টম বারের মতো ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ট্রফি জিতলেন মেসি। সোমবার (৩০ অক্টোবর) রাতে প্যারিসের শ্যালে থিয়েটারে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ফ্রান্স ফুটবলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি তার হাতে তুলে দেন সাবেক ইংলিশ তারকা ডেভিড বেকহাম।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি পেছনে ফেলেছেন হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত মৌসুমে ৫৩ গোল করার পাশাপাশি ট্রেবল জিতেছিলেন নরওয়েজীয় তারকা হলান্ড।
অন্যদিকে গত কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল এমবাপ্পের। হ্যাটট্রিকের পর দলকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৮ গোল করে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। এছাড়া পিএসজির হয়ে গত মৌসুমে ৪৩ ম্যাচে ৪১ গোল করার পাশাপাশি ১০ গোলে সহায়তা করেছিলেন তিনি। জিতেছিলেন লিগ শিরোপা।
হলান্ড ও এমবাপ্পের গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স থাকলেও তাদের ছাড়িয়ে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কারটি দখলে নিয়েছেন মেসি। কারণ তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এনে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মর্যাদার ট্রফিটি।
গত বছরের ডিসেম্বরে কাতারে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপে মেসির জাদুতে বুঁদ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। ৩৬ বছর পর দেশকে এনে দিয়েছেন আকাঙ্ক্ষিত শিরোপা। ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে আসরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হয়ে সিলভার বুটও জিতেছিলেন। এমন পারফরম্যান্সের পর ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী আর কে হতে পারে!
এছাড়া পিএসজির হয়ে গত মৌসুমে লিগ শিরোপাও জিতেছেন তিনি। প্যারিসিয়ানদের হয়ে গত মৌসুমে ৪১ ম্যাচে তার পা থেকে এসেছে ২১ গোল ও ২০ অ্যাসিস্ট।
অষ্টম ব্যালন ডি’অর জিতে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘আমি যে ক্যারিয়ার পেয়েছি সেটা আমি কল্পনাও করিনি! ভাগ্যকে আমার পাশে পেয়েছি, সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আমার সব লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি, ফুটবলে যা কিছু আছে তার সবই অর্জন করতে পেরেছি— যা খুবই কঠিন।’
ফুটবলারদের ব্যক্তিগত মর্যাদার এ পুরস্কার অর্জনে মেসির ধারেকাছে নেই কেউ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জিতেছেন সর্বোচ্চ পাঁচটি। পর্তুগিজ তারকার সঙ্গে ব্যবধানটা এখন বেড়ে দাঁড়ালো তিনে।
১৯৫৬ সাল থেকে চলে আসা এ পুরস্কার মেসির হাতে প্রথম ওঠে ২০০৯ সালে। এরপর টানা ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সাল পর্যন্ত তার থেকে এ পুরস্কারটি কেউ চিনিয়ে নিতে পারেনি। দুই বছর বিরতি দিয়ে ২০১৫ সালে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর ট্রফি ওঠে মেসির হাতে। এরপর ২০১৯ সালে ষষ্ঠ আর ২০২১ সালে জেতেন সপ্তম ট্রফিটি। প্রথম ছয়টি জেতেন বার্সেলোনায় থাকতে। সপ্তমটি পিএসজিতে যোগ দেয়ার পর। আর এবার রেকর্ডবুকে নাম লেখালেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে।
মন্তব্য করুন